Dhaka ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন, জাতিসংঘে বক্তব্য দেবেন বাংলায় মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে তিন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ, দুজনের মরদেহ উদ্ধার আড়াইহাজারে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ স্বামীসহ আটক ৩ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বে র‍্যালি নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল শেরপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে- কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩০ বার

বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে- কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, তোমাদের অতীত আমরা জানি, তোমরা অতীতে কি করেছো। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেবো না।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই আমরা ভবিষ্যতে তারা কী করছে- সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়াশি সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়ানব্বই সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? বিগত ১৭ বছরের জনগণের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি। আন্দোলনে বিএনপিসহ বিএনপির সাথে যেই রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গুম-খুনের শিকার হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা জনগণকে যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে, তাদের আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখি নাই।

তিনি বলেন, আজকে এরা সংস্কারের কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন তখন আপনারা সংস্কার নিয়ে। এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম মুয়াজ্জেম সাহেবদের যে ভাতা সেটির বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা মানুষের মতন মানুষ হতে পারে। দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে। দেশের কল কারখানা তৈরি করতে হবে। যাতে দেশের বেকার যুবকরা, বেকার তরুণরা-তরুণীরা যাতে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। অর্থাৎ আমাদের এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি যে বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতন বানিয়ে ফেলবো। বাংলাদেশকে তমুক দেশের মতন বানিয়ে ফেলবো। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতন বানাতে চাই না। আমরা বানাতে চাই, আমরা বাংলাদেশকে তৈরি করতে চাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসাবে। যেই রাষ্ট্রে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণীর মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা সাহায্য করবে। সহযোগিতা দিবে। যেই রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি শ্রেণীর প্রতিটি মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী তার প্রাপ্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন যে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম- আমরা দেশে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই পরিবারের নারী প্রধানকে। কেন? এইজন্য আমরা দিতে চাই যে আমরা বিশ্বাস করি যে পরিবারের নারী বা সমগ্র বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। তাদেরকে পেছনে ফেলে কখনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। এবং সে কারণেই দেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। বর্তমান সরকার আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি দেশে খালেদা জিয়ার সেই পলিসিকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দিব নারীদেরকে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি যারা ভালো রেজাল্ট করবে তাদেরকে আমরা সরকার থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করবো।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো.জালাল উদ্দিন ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো.ফজলুর রহমান প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে- কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১২:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে- কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, তোমাদের অতীত আমরা জানি, তোমরা অতীতে কি করেছো। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেবো না।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই আমরা ভবিষ্যতে তারা কী করছে- সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়াশি সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়ানব্বই সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? বিগত ১৭ বছরের জনগণের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি। আন্দোলনে বিএনপিসহ বিএনপির সাথে যেই রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গুম-খুনের শিকার হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা জনগণকে যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে, তাদের আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখি নাই।

তিনি বলেন, আজকে এরা সংস্কারের কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন তখন আপনারা সংস্কার নিয়ে। এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম মুয়াজ্জেম সাহেবদের যে ভাতা সেটির বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা মানুষের মতন মানুষ হতে পারে। দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে। দেশের কল কারখানা তৈরি করতে হবে। যাতে দেশের বেকার যুবকরা, বেকার তরুণরা-তরুণীরা যাতে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। অর্থাৎ আমাদের এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি যে বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতন বানিয়ে ফেলবো। বাংলাদেশকে তমুক দেশের মতন বানিয়ে ফেলবো। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতন বানাতে চাই না। আমরা বানাতে চাই, আমরা বাংলাদেশকে তৈরি করতে চাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসাবে। যেই রাষ্ট্রে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণীর মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা সাহায্য করবে। সহযোগিতা দিবে। যেই রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি শ্রেণীর প্রতিটি মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী তার প্রাপ্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন যে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম- আমরা দেশে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই পরিবারের নারী প্রধানকে। কেন? এইজন্য আমরা দিতে চাই যে আমরা বিশ্বাস করি যে পরিবারের নারী বা সমগ্র বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। তাদেরকে পেছনে ফেলে কখনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। এবং সে কারণেই দেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। বর্তমান সরকার আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি দেশে খালেদা জিয়ার সেই পলিসিকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দিব নারীদেরকে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি যারা ভালো রেজাল্ট করবে তাদেরকে আমরা সরকার থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করবো।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো.জালাল উদ্দিন ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো.ফজলুর রহমান প্রমুখ।